মাদরাসায় যেসমস্ত অনুদান গ্রহন করা হয় সাধারণ দান  যাকাত সাদাকাত  কোরবানীর চামড়া ও উহার মূল্য 

শায়খ হাইসাম বিন আবু ইসহাক হুয়াইনি ও শায়খ হামযাহ আল-খালিদী’র আগমন উপলক্ষে জামিয়ায় বিশেষ মজলিস অনুষ্ঠিত

জামিয়া ডেস্ক :

গত ০৭/০৭/২০২৬ ঈসায়ী তারিখে জামিয়া আরাবিয়া বাইতুস সালামে এক মনোরম ও ইলমী আবহের সৃষ্টি হয়। এদিন জামিয়ায় শুভাগমন করেন মিসরের প্রখ্যাত আলেম শায়খ শাইখ আবু ইসহাক হুয়াইনি রহিমাহুল্লাহর সুযোগ্য পুত্র ড. হাইসাম এবং শায়খ ড. হামযাহ আল খালিদী (হাফিযাহুমাল্লাহ)।
সম্মানিত মেহমানদ্বয়ের এই মোবারক আগমনকে কেন্দ্র করে মাগরিবের নামাজের পর জামিয়ার পক্ষ থেকে এক বর্ণাঢ্য ও উষ্ণ স্বাগত মজলিসের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই জামিয়ার সম্মানিত মুদীর মুফতি মানসুর আহমাদ (দামাত বারাকাতুহুম) আরবী ভাষায় স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখছেন জামিয়ার সম্মানিত মুদীর মুফতি মানসুর আহমাদ

সম্মানিত মুদীরের স্বাগত ভাষণের পর আগত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছাত্র, শিক্ষকবৃন্দ ও শুধীমণ্ডলীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা পেশ করেন। তথ্য ও তত্ত্বের অপূর্ব সমাহারে সমৃদ্ধ তাঁদের প্রতিটি কথা ছিল এক গভীর দিকনির্দেশনা।
উল্লেখ্য, শায়খ হাইসাম (হাফিযাহুল্লাহ)-এর মরহুম পিতা শায়খ আবু ইসহাক হুয়াইনি ছিলেন মিসরের এক প্রথিতযশা আলেম। মিসরের বর্তমান শাসক আব্দুল ফাত্তাহ সিসির ক্ষমতাগ্রহণের পর দেশটিতে যে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ধর-পাকড় শুরু হয়, তার সম্মুখীন হয়ে তিনি কাতারে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত জীবন বেছে নেন এবং পরবর্তীতে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

জামিয়ার দফতরে ইহতিমামে কিতাব পরিদর্শন করছেন শাইখ হাইসাম হাফিযাহুল্লাহ

অনুষ্ঠান শেষে সম্মানিত মেহমানদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এই নৈশভোজে মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ এবং বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট আলেম অংশ নেন। সেখানে অতিথিরা মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ও প্রশাসনের সাথে আন্তরিক আলাপচারিতায় মিলিত হন। তাঁরা মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং এর চমৎকার ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ দেখে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করে ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জামিয়ার দারুল ইফতায় কিতাব পরিদর্শন করছেন শাইখ হাইসাম ও শাইখ হামযাহ আল খালিদী হাফিযাহুমাল্লাহ

শায়খ হাইসামের ইলম, আহলে ইলম ও কিতাবের প্রতি গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে মুগ্ধ করে। একই সাথে, জামিয়ার কোমলমতি শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম মমত্ববোধ ও স্নেহ সবার হৃদয়ে এক গভীর রেখাপাত করে।

বিদায়ের সময় সম্মানিত মুদীর মেহমানদের হাতে জামিয়ার সদ্য প্রকাশিত ষান্মাষিক আরবী ম্যাগাজিন আস সালাম তুলে দেন। বিদায়ের সময় এক আবেঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সম্মানিত মেহমানরা জামিয়ার জন্য দোয়া করেন এবং নিজেদের জন্যও সবার কাছে দোয়া চান। শিক্ষকরাও তাঁদের কাছে দোয়া চান। এরপর ভবিষ্যতে আবারও দেখা হবে—এই আশা প্রকাশ করে তারা বিদায় গ্রহণ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *